জন্মান্ধরা কি আলোর অস্তিত্ব বুঝতে পারে?

 

একজন জন্মান্ধ ব্যক্তিকে কি আলোর অস্তিত্ব সম্পর্কে জানানো সম্ভব?
বুঝার সুবিধার জন্য আমরা কিভাবে দেখি এবং কিভাবে অন্ধকে দেখানো সম্ভব এই পুরো ব্যাপারটা ভেঙ্গে ভেঙ্গে বলি ।

১) আমরা কোন কিছু দেখি যখন সেটা থেকে আলো আমাদের চোখে এসে পড়ে । সংক্ষিপ্তভাবে এটা ঘটে আমাদের রেটিনায় অবস্থিত দুই ধরণের আলোকসংবেদী কোষ রড এবং কোণের কারণে । কম আলোর ক্ষেত্রে বেশি ক্রিয়াশীল থাকে রড, আর “কোন” করে কোন বস্তুর রঙ এবং ডিটেইলস দেখার কাজ । এগুলাতে আলো পড়লে সেই সিগন্যাল চলে যায় সেগুলার সাথে যুক্ত স্নায়ুতন্ত্রে এবং সেখান থেকে মস্তিষ্কের ছবি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (Image Processing Area – IPA), অতঃপর আমরা সেই জিনিস দেখতে পাই । এই দুইটা কোষ ঠিকমতো কাজ না করাকে বা অন্য কোন কারণে কাজ করতে না পারাকে আমরা অন্ধত্ব (আংশিক বা পুরোপুরি) বলি ।

২) বলতে পারেন, চোখ বন্ধ করলে আমরা তো কালো রঙের অন্ধকার দেখি । আসলে অন্ধকারে আমরা কিছুই দেখি না, কারণ কোন বস্তু থেকে আলো আমাদের চোখে এসে পড়ে না । অন্ধকারের রঙ কালো না, বরং অন্ধকার হলো আলোর অনুপস্থিতি। কোন বস্তুর রঙ কালো বলতে বুঝায়, সে বস্তু থেকে কোন আলো প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে এসে পড়ছে না । “ব্ল্যাক হোল” নামটা এখান থেকেই আসছে, কারণ সেখান থেকে অন্য কিছু দূরে থাক, আলোও ফিরে আসতে পারে না ।

৩) তাহলে অন্ধরা কিভাবে বুঝবে আলোর ব্যাপারটা? এইক্ষেত্রে আসে আরেকটা আলোক সংবেদী কোষের কথা যেটা আমরা সচরাচর বইয়ে পড়ি না, কারণ সেটা আমাদের দেখার ক্ষেত্রে কোন ভূমিকা রাখে না । এটার নাম intrinsically photosensitive retinal ganglion cells (ipRGCs) । এটা রেটিনায় থাকে না এবং এটা আমাদের মস্তিকের ছবি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার সাথেও যুক্ত থাকে না । এটা থাকে রড এবং কোন থেকে যে স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে সিগন্যাল মস্তিস্কে যায় সেই স্নায়ুতন্ত্রের সাথে । এটার সিগন্যালও IPA তে যায় না, বরং যায় আমাদের মস্তিষ্কের অন্য কিছু অংশে যেগুলা ঘুম এবং অন্যান্য ব্যাপার প্রসেসিং করে থাকে ।

৪) এবার আসুন কিভাবে একজন অন্ধকে আলোর অস্তিত্ব পরীক্ষামূলকভাবে বুঝানো যাবে সেই ব্যাপারে । একজন অন্ধ ব্যক্তির চোখে যদি ক্রমাগত নীল আলো ফেলা হয়, সে যদিও কিছু দেখবে না (কারণ, তার চোখের “রড এবং কোন” কাজ করছে না), কিন্তু ipRGCs এর মাধ্যমে তার মস্তিস্ক আলোর প্রভাবটা বুঝতে পারবে, যেটা তার ঘুমের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে, মাথা ব্যাথার কারণ হবে । কোন বাড়তি প্রভাবক(বৈদ্যুতিক, রাসায়নিক) ছাড়াই শুধুমাত্র চোখে বারবার আলো ফেলার মাধ্যমে অন্ধ ব্যক্তির মস্তিষ্কের কাজকে প্রভাবিত করা যাবে যেটা দ্বারা অন্ধ ব্যক্তি বুঝতে পারবে যে, আলো বলে কিছু আছে । যদিও সে কিছু দেখতে পারছে না, কিন্তু আলোর প্রভাব অনুভব করতে পারবে তার মস্তিষ্কে।

প্রশ্ন করতে পারেন, কেন নীল আলোর কথা বলা হয়েছে পরীক্ষার ক্ষেত্রে । অন্য যেকোনো আলো ব্যবহার করেও পরীক্ষা করা যাবে, কিন্তু নীল আলো ব্যবহার করার কারণ হলো, নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম এবং শক্তিমত্তা দৃশ্যমান আলোর অন্য রঙগুলোর তুলনায় বেশি । ফলে, মস্তিষ্কে নীল আলোর প্রভাব অন্যগুলোর তুলনায় তুলনামূলক দ্রুত এবং তীব্র হয় ।

সহায়ক লিঙ্কঃ

১) https://www.scientificamerican.com/article/how-blind-people-detect-light/

২) https://www.livescience.com/33682-blind-people.html

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *