প্রধান বিচারপতি ছুটিতে গেলেন? নাকি ছুটিতে পাঠানো হলো?

আর মাত্র তিনটা মাস । এরপরেই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমান সিনহা অবসরে যেতেন । এরমধ্যেই হঠাৎ তিনি এতোটাই অসুস্থ বোধ করলেন যে, এক মাস ছুটিতে চলে গেলেন । মনে নানাবিধ সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও এতোটুকু পর্যন্ত মেনে নিয়েছিলাম পর্যাপ্ত এবং বিশ্বাসযোগ্য তথ্য প্রমাণের অভাবে । কিন্তু, আইনমন্ত্রী নিজে যখন বিচারপতির ছুটি চেয়ে করা দরখাস্তের কপি সাংবাদিকদের দেখালেন(লিঙ্কঃ ১) তখন সেই ছুটির দরখাস্ত দেখে সন্দেহটাই সত্যি প্রমাণিত হলো ।     আইনমন্ত্রী কর্তৃক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভুল বানানে ভরা ছুটির দরখাস্তটিতে সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হলো প্রধান বিচারপতির স্বাক্ষর । আমাদের দেশে যে কোন মানুষের বাংলা এবং ইংরেজি দুটি স্বাক্ষর থাকতেই পারে । কিন্তু, …

শেখ কামালকে নিয়ে প্রচলিত দুটি অপপ্রচারের খণ্ডনচেষ্টা

বঙ্গবন্ধুর পরিবার নিয়ে যে দুইটা অপপ্রচার সবচেয়ে বেশি প্রচলিত সে দুইটা হলো মেজর ডালিমের বউকে অপহরণ এবং শেখ কামালের ব্যাংক ডাকাতি সম্পর্কিত ঘটনা । দুইটা ঘটনাই রেফারেন্স সহকারে খন্ডন করার চেষ্টা করি ।   ১) মেজর ডালিমের বউকে অপহরণ সংক্রান্ত ঘটনাঃ   এই সম্পর্কিত ঘটনার সবচেয়ে ভালো প্রমাণ হতে পারে মেজর ডালিমের নিজের ভাষ্য। সে নিজে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করছে, সে হিসাবে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বা বিপক্ষে বলা তার কথার ক্রেডিবিলিটি এমনিতেও খুব কম, তার উপর নিজের এবং নিজের বৌ এর সাথে ঘটা ঘটনাতে তো বঙ্গবন্ধু আর তার পরিবারের কেউ জড়িত থাকলে সেটা উল্টা আরও বাড়ায়ে বলার কথা, তাই না? বস্তুত, এই …

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড এবং তার বিচার সম্পর্কে কিছু টুকরো তথ্য

পুরা পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বেইমান, অকৃতজ্ঞ জাতি সম্ভবত আমরা । যে মানুষটা তার সারাটা জীবন পার করে দিয়েছিলেন আমাদের ভালোর চিন্তায় (তার কিছু কাজ ভাল নাকি খারাপ সেটা নিয়ে তর্ক হতে পারে, আলোচনা-সমালোচনা হতে পারে, সেটা ভিন্ন ব্যাপার, কিন্তু তার উদ্দেশ্য যে ভালো ছিল সেটা নিয়ে সম্ভবত তর্কের অবকাশ নাই), জেল খেটেছিলেন, এমনকি একটা অনিচ্ছুক, অনুপযুক্ত জাতির স্বাধীনতা লাভে মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন, সেই মানুষটাকেই আমাদেরই কিছু জাত ভাই তার কাজের পুরষ্কার হিসেবে হত্যা করেছে স্বপরিবারে, ছাড়েনি তার আত্মীয় স্বজনকেও । সেটাকেও একটা কালো অধ্যায় বলে মেনে নেয়া যেতো যদি পরবর্তী প্রজন্ম তার প্রাপ্য মর্যাদাটুকু বুঝতো । কিন্তু না, আমাদেরই …

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড এবং তার বিচার সম্পর্কে আপনি কতোটুকু জানেন?

আগামীকাল বঙ্গবন্ধুর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী । জাতীয় শোক দিবসের প্রাক্কালে বঙ্গবন্ধুর হত্যা এবং বিচার সম্পর্কিত কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য সবার সাথে শেয়ার করার ইচ্ছায় একটা কুইজ বানালাম । কুইজের শেষে উত্তরগুলো যথাসম্ভব বিস্তারিত দেয়ার চেষ্টা করেছি । আপনাদের যদি ভালো লাগে এবং নতুন কিছু আপনাদের জানার ভাণ্ডারে যোগ হয়, তাহলেই আমার এই প্রচেষ্টা সফল বলে ধরে নিবো ।

৫৭ ধারার অপব্যবহার এবং একটি ছেলেভুলানো গল্প

অনুভূতির আইন সম্পর্কিত বিভিন্ন আইন অনেক আগে থেকে থাকলেও বাংলাদেশে ৫৭ ধারার প্রাতিষ্ঠানিক শুরু ২০০৬ সালে । নিজেদের ক্ষমতার একেবারে শেষ প্রান্তে এসে বিএনপি সরকার সংবিধানে এই আইন যুক্ত করে ৮ অক্টোবর ২০০৬ এ (সূত্রঃ ১)। মনে রাখা প্রয়োজন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়েছিল সেই বছরেরই ২৯ অক্টোবর । এরপর অনেক সময় গত হয়েছে, কিন্তু আইনটা আইনের বইয়েই থেকে গিয়েছিল । এর প্রথম প্রয়োগ হয়েছিল ২০১৩ এর শাহবাগ আন্দোলন শুরু হওয়ার পর । সাল দেখে বুঝতেই পারছেন, ধর্মীয় ইস্যুকে উপজীব্য করে রাজাকারদের বিচারের আন্দোলনকে প্রভাবিত করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য । সেই শুরু, এরপর এই আইন সময়ের সাথে হয়ে উঠেছে বিভীষিকা । …

হুমায়ূন আহমেদের প্রয়াণ দিবসে এক টুকরো ভালোবাসা

আমার পড়ার শুরুটা কি হুমায়ূন আহমেদের হাত ধরে হয়েছিল? সম্ভবত না । আমার পড়ার অভ্যাসটা এসেছে কমিকস আর মাসুদ রানা পড়া থেকে । পাগলের মতো পড়তাম, কিনতাম, বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতাম, আর এজন্য মাঝে মাঝেই রামধোলাইও খেতাম । সেটাই কালক্রমে অন্য বই পড়ায় উৎসাহ দিয়েছে । আর এই অন্য বই পড়তে পড়তে পড়াটাই অভ্যাস হয়ে যাওয়াটা? হুম, সেটা হুমায়ূন আহমেদের হাত ধরেই ।   হুমায়ূন আহমেদের লেখার মধ্যে একটা সারল্য আছে । পড়তে গিয়ে নিজেকে খুব সহজেই বসিয়ে ফেলা যায় গল্পের চরিত্রের জায়গায় । মনে হয় যেন, “আরে, আমিও এই পরিস্থিতিতে পড়ছিলাম” বা “আমিও এমন করতে পারলে কি চমৎকারই না …

একজন অভিজিৎ এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যত

১) ২০১৪ এর নভেম্বর, ধর্ম প্রচারক জুনাইদ জামশেদকে মহানবী এবং তার স্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তির অভিযোগে ব্লাসফেমী আইনের অধীনে দোষী সাব্যস্ত করা হয় । এককালের পাকিস্তানের বিখ্যাত গায়ক, ফ্যাশন ডিজাইনার এবং পেশায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার জুনায়েদ জামশেদ ২০০৪ সালে তার পেশা, নেশা দুইটাই ছেড়ে ধর্ম প্রচারে মনোনিবেশ করেন । ২০১৪ তে ব্লাসফেমীর অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার পর তিনি তার অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থণা করেন । কিন্তু এই অপরাধ যে ক্ষমার অযোগ্য (সূত্রঃ ১) । ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬ তে এক তাবলীগ জামাত থেকে পাকিস্তান বিমানে করে লাহোর ফেরার পথে বিমান বিধ্বস্ত হয় এবং এতে তিনি এবং তার স্ত্রী মারা যান (সূত্রঃ ২)। যদিও অপ্রমাণিত, …

একুশে ফেব্রুয়ারি নিয়ে কথকতা

আমাদের দেশের ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা দিন হচ্ছে ২১শে ফেব্রুয়ারি । কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ২১শে ফেব্রুয়ারি সম্পর্কে আমাদের দেশেরই বেশিরভাগ মানুষ তেমন একটা জানে না বা ভুল জানে । তাই আমরা ২১শে ফেব্রুয়ারি সম্পর্কে কিছু তথ্য জানার চেস্টা করবো । . ১) ২১শে ফেব্রুয়ারি কি? এটা কি স্বাধীনতা দিবস? বিজয় দিবস? উত্তরঃ না, এটা আমাদের কাছে শহীদ দিবস এবং সমগ্র বিশ্বের কাছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস । . ২) এই দিনটা কেন গুরুত্বপূর্ণ? এই দিন কি যুদ্ধ হয়েছিল? আমাদের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল? উত্তরঃ না, এই দিন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়নি, কোন যুদ্ধ হয়নি, বরং ভাষার দাবীতে মিছিল হয়েছিল । আমাদের বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা …