ডিপ ওয়েব, ডার্ক ওয়েব, গুজব, অতিরঞ্জন এবং অন্যান্য

ডিপ ওয়েব, ডার্ক ওয়েব নিয়ে আমাদের অনেকের মনে একটা প্রচন্ড রকমের রহস্যমন্ডিত আগ্রহ আছে যার মূল হলো সেগুলা সম্পর্কে প্রচলিত কিছু ভুল এবং অতিরঞ্জিত তথ্য । যেহেতু গুজব, ষড়যন্ত্রতত্ত্ব বা অতিরঞ্জিত তথ্যে মানুষের আগ্রহ সবসময়ই বেশি থাকে, তাই এই আগ্রহকে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মূলধারার সংবাদপত্রগুলাও এই টপিকের উপর সত্য মিথ্যার মিশেলে খবর ছাপিয়েছে অগুনতি (১, ২, ৩) । ইন্টারনেট বা ইউটিউবে সার্চ দিলে মিথ্যা এবং অতিরঞ্জিত খবরের ভীড়ে আসল তথ্য পাওয়াটাই কঠিন হয়ে যায় । তাই, নিজের জানাশোনার মধ্যে যথাসম্ভব সঠিক তথ্য দেয়ার চেষ্টায় ইন্টারনেটের এই ব্যাপারটা নিয়ে কিছুটা ধারণা দেয়ার চেষ্টা করবো । . ১) …

ডিম আগে না মুরগি আগে?

একটা শতাব্দী প্রাচীন প্রশ্ন । কেউ বলে ডিম ছাড়া মুরগি কিভাবে আসবে । কেউ বলে মুরগি ছাড়া ডিম কিভাবে আসবে ! দুটোই যৌক্তিক প্রশ্ন । কিন্তু, উত্তর কি দুটো? না । আমরা এই উত্তরটাই আজ খোঁজার চেষ্টা করবো । . ডিমের মাধ্যমে বাচ্চা উৎপাদন করে এমন প্রাণী মুরগির আগেও আরও অনেক আছে । সুতারাং, ডিম আগে এটা বলাই যায় । অর্থাৎ, সঠিক প্রশ্নটা হচ্ছে, মুরগি আগে নাকি মুরগির ডিম আগে । এই ক্ষেত্রে আমাদের বিবর্তনের কার্যপ্রক্রিয়া বোঝা জরুরী । . বিবর্তনের দিক থেকে বিবেচনা করলে ডিম আগে । কারণ, বিবর্তনের মাধ্যমে একটা প্রাণী থেকে আরেকটা প্রাণীর বিবর্তন হয় তাদের জীনে …

কিভাবে যাচাই করবেন কোন তথ্য বা ছবি?

ইন্টারনেটের কল্যানে যেকোনো কিছু সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যেমন অনেক সহজ হয়ে গেছে, তেমনি আপনার অজ্ঞতা বা অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে যেকোনো ব্যাপারে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোও অনেক সহজ হয়ে গেছে । কিন্তু, ভুল তথ্য বা ভুয়া ছবির এই ব্যাপারটা এড়ানো যায় খুব সহজেই, শুধুমাত্র গুগল ব্যবহার করেই । কিভাবে? বলার চেষ্টা করি । ১) ভুল তথ্য বা সংবাদঃ কোন তথ্য ভুল বা সন্দেহজনক মনে হচ্ছে? হেডলাইনটা বা কিছু কিওয়ার্ড লিখে গুগলে সার্চ দিন । আশা করা যায়, গুগল সার্চের প্রথম পৃষ্ঠাতেই পেয়ে যাবেন আপনার উত্তর । যে সাইটগুলার পাঠকপ্রিয় এবং নির্ভরযোগ্য, সেগুলোকে ফলো করার চেষ্টা করবেন । যেমনঃ চাঁদে অবতরণের ব্যাপারটা সম্পর্কে …

অন্ধরা কি স্বপ্ন দেখে?

প্রঃ অন্ধরা কি স্বপ্ন দেখে? উঃ হুম, অন্ধরাও স্বপ্ন দেখে । কারণ, স্বপ্ন শুধুমাত্র চোখের উপর নির্ভর করে না । স্বপ্নে আমরা দেখতে পাই, গন্ধ পাই, কোন কিছু অনুভব করতে পারি, ভয়, আনন্দ, ব্যাথা পেতে পারি । এক কথায় আমরা দৈনন্দিন জীবনে যে ইন্দ্রিয়গুলো ব্যবহার করি, সেগুলোর সবগুলোর সমন্বয়ই স্বপ্নে ঘটে থাকে । প্রঃ অন্ধরা স্বপ্নে কি দেখে? উঃ এইক্ষেত্রে প্রশ্ন আসে, “আমরা স্বপ্নে কি দেখি?” । স্বপ্ন মানুষের দৈনন্দিন জীবনে দেখা বিভিন্ন দৃশ্য, শব্দ, অনুভূতির একটা সম্মিলিত রূপ । আমাদের কল্পনাও এসবের উপর ভিত্তি করেই হয় । আপনি স্বপ্নে এমন কিছু দেখবেন না যেটা আপনি জীবনে কখনো দেখেন নাই …

জন্মান্ধরা কি আলোর অস্তিত্ব বুঝতে পারে?

  একজন জন্মান্ধ ব্যক্তিকে কি আলোর অস্তিত্ব সম্পর্কে জানানো সম্ভব? বুঝার সুবিধার জন্য আমরা কিভাবে দেখি এবং কিভাবে অন্ধকে দেখানো সম্ভব এই পুরো ব্যাপারটা ভেঙ্গে ভেঙ্গে বলি । ১) আমরা কোন কিছু দেখি যখন সেটা থেকে আলো আমাদের চোখে এসে পড়ে । সংক্ষিপ্তভাবে এটা ঘটে আমাদের রেটিনায় অবস্থিত দুই ধরণের আলোকসংবেদী কোষ রড এবং কোণের কারণে । কম আলোর ক্ষেত্রে বেশি ক্রিয়াশীল থাকে রড, আর “কোন” করে কোন বস্তুর রঙ এবং ডিটেইলস দেখার কাজ । এগুলাতে আলো পড়লে সেই সিগন্যাল চলে যায় সেগুলার সাথে যুক্ত স্নায়ুতন্ত্রে এবং সেখান থেকে মস্তিষ্কের ছবি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (Image Processing Area – IPA), অতঃপর আমরা …

মুসলিম বিজ্ঞানী ফ্যালাসি ১ – হাসান ইবনে হাইথাম

গবেষনামূলক বিজ্ঞানের জনক বলে ধরা হয় হাসান ইবনে আল হাইথামকে যিনি আল হাজেন নামেই বিজ্ঞানী মহলে অধিক পরিচিত । তিনি তার তিন খন্ডে লিখিত “দ্যা অপটিক্স অফ ইবনে আল হাইথাম” এ গবেষণামূলক বিজ্ঞানের সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবেঃ বাংলায় কথাটা দাঁড়ায় মোটামুটি এমনঃ উনাকে মুসলিম বিজ্ঞানী হিসেবে মেনে তাকে নিয়ে গর্বিত হওয়ার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, উনার এই দৃষ্টিভঙ্গির সাথে কি মুসলমানরা বা অন্তত আপনি একমত পোষন করেন? নাকি আপনার চিন্তাভাবনা এবং বিশ্বাসের অবস্থান উনার ঠিক বিপরীতে? আপনি যখন আপনার বিশ্বাসকে বিজ্ঞানের সাথে মেলাতে চান, তখন কি আপনি আপনার বিশ্বাসকে প্রশ্ন করার, প্রমাণসাপেক্ষে সেই প্রশ্নের অপছন্দনীয় উত্তরকে মেনে নেয়ার সাহস রাখেন?   …

বিজ্ঞান পরিবর্তনশীল? সেটাইতো সার্থকতা

বিজ্ঞান প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়, এটা নিয়ে দুঃখ? একটা পরিবর্তনশীল জিনিস মেনে নিতে কষ্ট হয়? কেন? বিজ্ঞান পরিবর্তনশীল না হলে তোঃ – আপনি এখনো উট, ঘোড়া বা গাধায় টানা গাড়িতে করেই চলাফেরা করতেন – এখনো কুঁড়েঘর বা তাবুতেই রাত কাটাতেন – কবুতর বা আশ্বারোহী দিয়ে পাঠানো চিঠি দিয়েই যোগাযোগ রক্ষা করতেন – ঝাড়ফুঁক এবং গাছের ছালা বাকল দিয়ে রোগ নিরাময় করতেন – খড়কুটো, কাঠ দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে অন্ধকার দূর করতেন । – বাঁশ, কাঠ, গাছের গুঁড়ি দিয়ে বানানো নৌকায় করে পানিপথ পার হতেন – আকাশ পথে লম্বা দূরত্ব পাড়ি দেয়া? সেটা একমাত্র জ্বীন পরীর পক্ষেই সম্ভব ভেবে দিনগুজার করতেন  আপনি কি …