ফিলিস্তিনের মুসলমানরা জঙ্গী হচ্ছে কেন?
– কারণ তারা বাস্তুহারা এবং নির্যাতিত ।

ভারতের মুসলমানরা জঙ্গী হচ্ছে কেন?
– কারণ তারা সংখ্যালঘু এবং নির্যাতিত ।

ইংল্যান্ড, আমেরিকা, ইউরোপের মুসলমানরা জঙ্গী হচ্ছে কেন?
– কারণ তারা সাংস্কৃতিক বৈষম্যের শিকার ।

তাহলে,
বাংলাদেশের মুসলমানরা জঙ্গী হচ্ছে কেন?
পাকিস্তানের মুসলমানরা জঙ্গী হচ্ছে কেন?
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের মুসলমানরা জঙ্গী হচ্ছে কেন?
এতো এতো মুসলমানরা জঙ্গীদের কর্মকাণ্ড জায়েজ করতে চায় কেন?

উত্তরঃ কারণ অন্যান্য দেশে তাদের মুসলমান ভাইরা নির্যাতিত ।

দুনিয়াতে আর কোন নির্যাতিত ধর্মীয় গোষ্ঠী নাই? তারা ভিন্ন দেশে গিয়ে সাংস্কৃতিক বৈষম্যের শিকার হয় না? তারা মুসলমানদের মতো এতো গণহারে জঙ্গিবাদে জড়াচ্ছে না কেন? এবং বিশ্বব্যাপী এতো অরাজকতা ছড়াচ্ছে না কেন?

বিখ্যাতরা যেকোনো কিছু বললে সেটাও বিখ্যাত হয়ে যায়, কারণে-অকারণে । যেমনঃ

বিখ্যাত ব্যক্তিঃ আমি ভাত খাই

প্রতিক্রিয়াঃ ওয়াও ! কি চমৎকার উক্তি ! কত সহজে মাত্র তিন শব্দে তিনি মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রামকে তুলে ধরলেন ! হার্বার্ট স্পেন্সার বলে গিয়েছিলেন, “সাইভাইভাল অফ দ্যা ফিটেস্ট” । সারভাইভ করতে হলে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে । বেঁচে থাকতে হলে খেতে হবে, বুদ্ধির সঠিক ব্যবহার করতে হবে । বুদ্ধির সঠিক ব্যবহারের জন্য দরকার সুস্থ মস্তিস্ক । আর মস্তিষ্কের জ্বালানি হলো শর্করা যেটা আমরা ভাত থেকে পাই !

সাধারণ মানুষঃ আমরাও ভাত খাই

প্রতিক্রিয়াঃ খিদা লাগলেতো খাবাই ! এখানে ঢোল বাজানোর কি আছে?

বারডেন অফ প্রুফ মাথায় রেখে তর্ক করা কেন প্রয়োজন?

উত্তরঃ এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা নেপচুন গ্রহের উত্তর গোলার্ধে ভূমির ১৩৯ ফুট গভীরে বাস করেন । কেউ কি আমাকে ভুল প্রমাণ করতে পারবে? না পারলে সেই ক্ষেত্রে আমার দাবী কি সঠিক বলে ধরে নেয়া যাবে?

কোন মুসলিম হিন্দুকে নমস্কার বলছে? কোন হিন্দু মুসলিমকে সালাম দিছে? কারও মৃত্যুতে কোন নাস্তিক RIP বলছে? “যেখানে থাকুন ভালো থাকুন” বলছে? বাবা-মা বা মুরুব্বী কাউকে পায়ে ধরে সালাম করেছে? তো?

আমাদের জন্ম সমাজে, বেড়ে উঠাও এই সমাজেই । এই সমাজই আমাকে আমাদের চিন্তা ভাবনাকে যেমন গড়ে দিয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে কিছু কথা, আচার আচরণও সময়ের সাথে ধর্ম-দেশের গণ্ডী পেরিয়ে সমাজের অংশ হয়ে গেছে । বড়/সম্মানিত কাউকে দেখলে সালাম/নমস্কার দেয়া, মা-বাবাকে পায়ে ধরে সালাম করা এইরকই কিছু ব্যাপার । কেউ মারা গেলে তাকে RIP কেউ যখন বলে সেটা ধর্মীয় সংস্কার থেকে বলে না, বরং মৃতের প্রতি , তার পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা থেকে বলে । আপনি আস্তিক হন বা নাস্তিক, যখন এসবের মধ্যেও আপনি ধর্ম টেনে আনেন তখন বুঝতে হয় যে, আপনি শুধুমাত্র আপনার ধর্মীয় বিশ্বাস/অবিশ্বাস সম্পর্কেই সচেতন, আর কিছু না । আপনি নিজে এসব করতে পারেন বা নাও করতে পারেন । কিন্তু কেউ করলে তাকে এসবের কারণে অপমান করা বা তাকে নিয়ে মজা করা খুবই অবিবেচকের মতো কাজ । আপনার বিচার-বিবেচনাবোধ এবং মনুষ্যত্বহীন এই একরোখা চিন্তাভাবনা দিয়ে সমাজের বা সমাজের মানুষের ঘোড়ার আন্ডার লাভটাও হবে না ।

মুমিনে কহিলো, দুনিয়াতে সবাই মুসলিম হইয়াই জন্মগ্রহণ করে । পরিবার এবং সমাজ পরিস্থিতি তাহাকে হিন্দু, খৃস্টান, ইহুদী এসব বানায় ।

আমি শুধাইলামঃ আসলে সবাই হিন্দু হইয়া জন্মগ্রহণ করে । মুসলিম/খৃস্টান/ইহুদী হইয়া জন্মগ্রহণ করিলেতো উহা (!) কাটা থাকিতো !

বিবর্তন বিশ্বাসযোগ্য না । তবে,

পাখাওয়ালা ঘোড়ায় চড়ে সাত আসমান ভ্রমণে অবিশ্বাসের কিছু নাই

হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ভারতে গরু জবাই বন্ধের জন্য করা মামলা খারিজ হওয়া সংখ্যালঘুদের সাথে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার একটি অনন্য নমুনা (ভারতের ইসলামিক দলের ভাষ্যমতে) ।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বাংলাদেশে কোথাও মূর্তি/ভাস্কর্য স্থাপন করা বা মূর্তি/প্রতিমা/ভাস্কর্য ভাঙ্গার বিরোধিতা করা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নস্টের নোংরা প্রচেষ্টা (বাংলাদেশের ইসলামিক দলের ভাষ্যমতে)

মেয়েটা কাঁদছে । গাল বেয়ে অঝোর ধারায় নেমে আসছে অশ্রুজল । সেই অশ্রু তার ঠোঁট ছুঁচ্ছে না, ভিজিয়ে দিছে ছেলেটির পা । ছেলেটিও নির্বাক, বিলি কাটছে মেয়েটির মাথায় । তার চোখ বেয়েও অশ্রু গড়াচ্ছে অবিরত । দুজনের অশ্রুতেই ধুয়ে মুছে যাচ্ছে তাদের এতদিনের স্বপ্ন, ভালোবাসা, ভালো লাগা । তারা একসাথেই বসে আছে গাড়িতে, কিন্তু মন থেকে ঠিকই জানে, হয়তো এটাই তাদের শেষ যুগল যাত্রা । কিছু ছোট ছোট ভুল, অবিশ্বাস, সন্দেহ গুঁড়িয়ে দিয়েছে এতোদিন ধরে তিলে তিলে গড়ে তোলা স্বপ্নময় এক যাত্রাপথ !

মেয়েটা রিকশায়, ছেলেটির হাত ধরে বসে আছে । খুব ইচ্ছে করছে কাঁধে মাথা রাখতে, কিন্তু সদ্য সম্পর্ক হওয়া মেয়েটির সাহসে কুলোচ্ছে না । ছেলেটিও মূর্তির মতো বসে আছে । তার মনেও হয়তো খেলে যাচ্ছে একই রকম কোন ভাবনা ।

জ্যাম পড়েছে । গাড়ির পাশেই দাঁড়িয়ে আছে রিকশাটি । গাড়ির ভেতর চোখ পড়তেই মেয়েটি একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে এই ভেবে যে, “আহা, মেয়েটা কতো সুখী ! কবে আমি তার কোলে এভাবে মাথা রাখতে পারবো?” চোখ ভিজে আসে তার ।

গাড়ির মেয়েটি কাঁদছে, কাঁদছে রিকশার মেয়েটাও । একজনের কান্না স্বপ্নভঙ্গের বেদনার, আরেকজনের কান্না অনাগত সুখস্বপ্নে বিভোরতার