হুমায়ূন আহমেদের প্রয়াণ দিবসে এক টুকরো ভালোবাসা

আমার পড়ার শুরুটা কি হুমায়ূন আহমেদের হাত ধরে হয়েছিল? সম্ভবত না । আমার পড়ার অভ্যাসটা এসেছে কমিকস আর মাসুদ রানা পড়া থেকে । পাগলের মতো পড়তাম, কিনতাম, বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতাম, আর এজন্য মাঝে মাঝেই রামধোলাইও খেতাম । সেটাই কালক্রমে অন্য বই পড়ায় উৎসাহ দিয়েছে । আর এই অন্য বই পড়তে পড়তে পড়াটাই অভ্যাস হয়ে যাওয়াটা? হুম, সেটা হুমায়ূন আহমেদের হাত ধরেই ।   হুমায়ূন আহমেদের লেখার মধ্যে একটা সারল্য আছে । পড়তে গিয়ে নিজেকে খুব সহজেই বসিয়ে ফেলা যায় গল্পের চরিত্রের জায়গায় । মনে হয় যেন, “আরে, আমিও এই পরিস্থিতিতে পড়ছিলাম” বা “আমিও এমন করতে পারলে কি চমৎকারই না …

অন্ধরা কি স্বপ্ন দেখে?

প্রঃ অন্ধরা কি স্বপ্ন দেখে? উঃ হুম, অন্ধরাও স্বপ্ন দেখে । কারণ, স্বপ্ন শুধুমাত্র চোখের উপর নির্ভর করে না । স্বপ্নে আমরা দেখতে পাই, গন্ধ পাই, কোন কিছু অনুভব করতে পারি, ভয়, আনন্দ, ব্যাথা পেতে পারি । এক কথায় আমরা দৈনন্দিন জীবনে যে ইন্দ্রিয়গুলো ব্যবহার করি, সেগুলোর সবগুলোর সমন্বয়ই স্বপ্নে ঘটে থাকে । প্রঃ অন্ধরা স্বপ্নে কি দেখে? উঃ এইক্ষেত্রে প্রশ্ন আসে, “আমরা স্বপ্নে কি দেখি?” । স্বপ্ন মানুষের দৈনন্দিন জীবনে দেখা বিভিন্ন দৃশ্য, শব্দ, অনুভূতির একটা সম্মিলিত রূপ । আমাদের কল্পনাও এসবের উপর ভিত্তি করেই হয় । আপনি স্বপ্নে এমন কিছু দেখবেন না যেটা আপনি জীবনে কখনো দেখেন নাই …

জন্মান্ধরা কি আলোর অস্তিত্ব বুঝতে পারে?

  একজন জন্মান্ধ ব্যক্তিকে কি আলোর অস্তিত্ব সম্পর্কে জানানো সম্ভব? বুঝার সুবিধার জন্য আমরা কিভাবে দেখি এবং কিভাবে অন্ধকে দেখানো সম্ভব এই পুরো ব্যাপারটা ভেঙ্গে ভেঙ্গে বলি । ১) আমরা কোন কিছু দেখি যখন সেটা থেকে আলো আমাদের চোখে এসে পড়ে । সংক্ষিপ্তভাবে এটা ঘটে আমাদের রেটিনায় অবস্থিত দুই ধরণের আলোকসংবেদী কোষ রড এবং কোণের কারণে । কম আলোর ক্ষেত্রে বেশি ক্রিয়াশীল থাকে রড, আর “কোন” করে কোন বস্তুর রঙ এবং ডিটেইলস দেখার কাজ । এগুলাতে আলো পড়লে সেই সিগন্যাল চলে যায় সেগুলার সাথে যুক্ত স্নায়ুতন্ত্রে এবং সেখান থেকে মস্তিষ্কের ছবি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (Image Processing Area – IPA), অতঃপর আমরা …

নব্য জুকারবার্গ? নাকি আরও একজন প্রতারক?

নূর অর্ণব নামে ঝিনাইদহের সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্র নাকি posttouch.com নামে একটা ওয়েবসাইট বানাইছে যেটা ফেসবুকের ব্যতিক্রম হতে পারে । প্রথমে বেশ ভালোই লাগছিল যে, আমাদের দেশের একটা এতো কম বয়সী ছেলে এতো বড় একটা কাজ করতেছে । এতোই বড় যে, তাকে নাকি হ্যাকাররা হত্যার হুমকি দিতেছে । খটকা লাগলো “সর্বশেষ হ্যাকাররা এসকিউএল ইনজেকশান পুশ করে সব কিছু নষ্ট করে দেয়। অর্ণব আবার নতুন করে শুরু করে ওয়েবসাইটির কাজ। ” এই লাইনটা পড়ার পর ! নতুন করে শুরু মানে কি? কম্পিউটারে কি ব্যাকআপ ছিল না? এরপর আরেকটু খোঁজ লাগাতে বললাম গুগল মামাকে । মামায় কইলো, ইনিও একজন গর্বিত প্রতারক । …

জুয়া খেলে পাঁচ বউ হারানো সংক্রান্ত গুজবের প্রেক্ষিতে

কিছুদিন আগে ফেসবুক এবং বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় একটা খবর বেশ ভাইরাল হয়েছে যে, এক সৌদি যুবরাজ কোন এক ক্যাসিনোতে জুয়া খেলে মাত্র ৬ ঘন্টায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলার এবং ৫ বউকে হারাইছে [লিঙ্কঃ ১] । এটা একটা ভুয়া খবর । অন্য যেকোন ভুয়া খবরের মতোই এটাও খুব দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং অন্যান্য পত্রিকার সাংঘাতিকরাও চেক না করেই কপি মারা শুরু করে । এটা প্রথম ছাপা হয় worldnewsdailyreport.com নামের একটা সাইটে, যারা ফানি, সিরিয়াস, গুরুত্বপূর্ণ, অগুরুত্বপূর্ণ সব কিছু নিয়াই স্যাটায়ার করে এবং তাদের ওয়েবসাইটের ফুটারে সেটা উল্লেখও করা আছে । এরপরও যদি আপনারা এর সত্যতা নিয়ে সন্দিহান থাকেন, সেই ক্ষেত্রে লিঙ্কঃ …

মুসলিম বিজ্ঞানী ফ্যালাসি ১ – হাসান ইবনে হাইথাম

গবেষনামূলক বিজ্ঞানের জনক বলে ধরা হয় হাসান ইবনে আল হাইথামকে যিনি আল হাজেন নামেই বিজ্ঞানী মহলে অধিক পরিচিত । তিনি তার তিন খন্ডে লিখিত “দ্যা অপটিক্স অফ ইবনে আল হাইথাম” এ গবেষণামূলক বিজ্ঞানের সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবেঃ বাংলায় কথাটা দাঁড়ায় মোটামুটি এমনঃ উনাকে মুসলিম বিজ্ঞানী হিসেবে মেনে তাকে নিয়ে গর্বিত হওয়ার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, উনার এই দৃষ্টিভঙ্গির সাথে কি মুসলমানরা বা অন্তত আপনি একমত পোষন করেন? নাকি আপনার চিন্তাভাবনা এবং বিশ্বাসের অবস্থান উনার ঠিক বিপরীতে? আপনি যখন আপনার বিশ্বাসকে বিজ্ঞানের সাথে মেলাতে চান, তখন কি আপনি আপনার বিশ্বাসকে প্রশ্ন করার, প্রমাণসাপেক্ষে সেই প্রশ্নের অপছন্দনীয় উত্তরকে মেনে নেয়ার সাহস রাখেন?   …

বিজ্ঞান পরিবর্তনশীল? সেটাইতো সার্থকতা

বিজ্ঞান প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়, এটা নিয়ে দুঃখ? একটা পরিবর্তনশীল জিনিস মেনে নিতে কষ্ট হয়? কেন? বিজ্ঞান পরিবর্তনশীল না হলে তোঃ – আপনি এখনো উট, ঘোড়া বা গাধায় টানা গাড়িতে করেই চলাফেরা করতেন – এখনো কুঁড়েঘর বা তাবুতেই রাত কাটাতেন – কবুতর বা আশ্বারোহী দিয়ে পাঠানো চিঠি দিয়েই যোগাযোগ রক্ষা করতেন – ঝাড়ফুঁক এবং গাছের ছালা বাকল দিয়ে রোগ নিরাময় করতেন – খড়কুটো, কাঠ দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে অন্ধকার দূর করতেন । – বাঁশ, কাঠ, গাছের গুঁড়ি দিয়ে বানানো নৌকায় করে পানিপথ পার হতেন – আকাশ পথে লম্বা দূরত্ব পাড়ি দেয়া? সেটা একমাত্র জ্বীন পরীর পক্ষেই সম্ভব ভেবে দিনগুজার করতেন  আপনি কি …

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডঃ সহী ইসলামী? নাকি নিখাদ ভন্ডামী?

“বাংলাদেশে ইসলামী শরিয়া মোতাবেক পরিচালিত ব্যাংক এর নাম বলুন” এই প্রশ্ন করলে সম্ভবত শয়ে নব্বই জনই প্রথমে ইসলামী ব্যাংক এর নাম বলবে । নামের মধ্যেই ধর্মকে ঢুকিয়ে দেয়া এই ব্যাংকও ধর্মকে পুঁজি করে এমনভাবে তাদের জাল বিস্তার করেছে যে, যে কেউ ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কথা বলতে গেলে প্রথমেই তাদের কথা মাথায় আসে । জামাতের পন্যের প্রতি এলার্জি থাকায় কখনোই আমি নিজের অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজনে ইসলামী ব্যাংকে যাইনি । কিন্তু, আমার বাসা থেকেও যখন ইসলামী ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলার কথা বলা হলো, তখন মনে হলো খোঁজ নিয়ে দেখি তারা কি আসলেই ইসলামিক কিনা (৫-৬ বছর আগের কথা) ! খোঁজ নিতে গিয়ে দেখি, …

একজন অভিজিৎ এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যত

১) ২০১৪ এর নভেম্বর, ধর্ম প্রচারক জুনাইদ জামশেদকে মহানবী এবং তার স্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তির অভিযোগে ব্লাসফেমী আইনের অধীনে দোষী সাব্যস্ত করা হয় । এককালের পাকিস্তানের বিখ্যাত গায়ক, ফ্যাশন ডিজাইনার এবং পেশায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার জুনায়েদ জামশেদ ২০০৪ সালে তার পেশা, নেশা দুইটাই ছেড়ে ধর্ম প্রচারে মনোনিবেশ করেন । ২০১৪ তে ব্লাসফেমীর অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার পর তিনি তার অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থণা করেন । কিন্তু এই অপরাধ যে ক্ষমার অযোগ্য (সূত্রঃ ১) । ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬ তে এক তাবলীগ জামাত থেকে পাকিস্তান বিমানে করে লাহোর ফেরার পথে বিমান বিধ্বস্ত হয় এবং এতে তিনি এবং তার স্ত্রী মারা যান (সূত্রঃ ২)। যদিও অপ্রমাণিত, …

একুশে ফেব্রুয়ারি নিয়ে কথকতা

আমাদের দেশের ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা দিন হচ্ছে ২১শে ফেব্রুয়ারি । কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ২১শে ফেব্রুয়ারি সম্পর্কে আমাদের দেশেরই বেশিরভাগ মানুষ তেমন একটা জানে না বা ভুল জানে । তাই আমরা ২১শে ফেব্রুয়ারি সম্পর্কে কিছু তথ্য জানার চেস্টা করবো । . ১) ২১শে ফেব্রুয়ারি কি? এটা কি স্বাধীনতা দিবস? বিজয় দিবস? উত্তরঃ না, এটা আমাদের কাছে শহীদ দিবস এবং সমগ্র বিশ্বের কাছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস । . ২) এই দিনটা কেন গুরুত্বপূর্ণ? এই দিন কি যুদ্ধ হয়েছিল? আমাদের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল? উত্তরঃ না, এই দিন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়নি, কোন যুদ্ধ হয়নি, বরং ভাষার দাবীতে মিছিল হয়েছিল । আমাদের বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা …